ভিসার আবেদনে ভুল ও সাংঘর্ষিক তথ্য প্রদান এবং এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া

    মোহাম্মদ এন মজুমদার :

    সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আজও একটি চমকপ্রদ এবং অত্যন্ত সুন্দর দেশ। শান্তিকামী, উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগে আগ্রহী- সবারই একমাত্র প্রত্যাশা, কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে সেটেল হওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারণ বিদ্যালয়সমূহ, সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং মেডিকেল সায়েন্সে উচ্চশিক্ষার অসাধারণ সুবিধাদি; শিক্ষা, আবাসন, সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাসমূহ বরাবরই সর্বস্তরের মানুষকে এখানে হাতছানি দিয়ে চলেছে।

    ফলে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মানুষ প্রতিনিয়তই ভিসা আবেদন করে আসছেন। ভিসা আবেদনসমূহ দু’ভাগ ভাগ করা হয়েছে, যেমন : I-160 বা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন এবং DS-260 বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন।

    ভিসার আবেদনমাত্রই একটি অতি ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আবেদন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট সংরক্ষণ করে রেখেছে সমস্ত জীবনের জন্য। সুতরাং প্রাথমিকভাবে কোন 1-160 অথবা DS-260 আবেদনে কোন ধরণের ভুল, মিথ্যা বা বানোয়াট তথ্য প্রদান মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

    যেমন ধরুন, জীবনে একবার কখনো রহস্যের বশবর্তী হয়ে তাড়াহুড়া করে ভিজিট ভিসার আবেদন করে সেখানে নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম ইত্যাদি যে রকম তথ্য দিয়েছেন, তা হয়তো আসল নয়। অথবা আপনার শিক্ষাগত সার্টিফিকেটসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আবার কয়েক বছর পর স্টুডেন্ট ভিসা অথবা Immigrant Visa-র আবেদনকালে ইতিপূর্বেকার দাখিলকৃত তথ্যের সাথে অসামঞ্জস্য তথ্য প্রদান আবেদন প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ করতে পারে। এমন কি পরবর্তী আবেদন বিলম্বিত এবং বাতিলও হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সংখ্যাবৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিয়তই বাংলাদেশিদের আগমনের হিড়িক চলছে। বর্তমানে আবেদনকারীদের একটি অংশ, যারা ইতিপূর্বে ভিসা আবেদনে ভুল, মিথ্যা ও সাংঘর্ষিক তথ্য প্রদান করেছিলেন, তাদের ভিসা প্রসেসিংয়ে চরম বিলম্ব হচ্ছে। সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেটসমূহ যেকোন ভিসা আবেদনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তাই ভিসা আবেদন অভিজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে পূরণ করা প্রয়োজন। অন্য ডকুমেন্টের সাথে না মিলিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নামের বানান নামের আগে ও পরে ‘মোঃ’, ‘মোহাম্মদ’, ‘মং’ ‘ম’ ইত্যাদি ব্যবহারে পূর্বেই সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। একইভাবে নামের শেষে বা আগে ‘হাজী’, ‘মৃত’, ‘চৌঃ’, ‘মজুমদার’, ‘তরফদার’, ‘হাওলাদার’ ইত্যাদি আবেদনে সন্নিবেশিত করার পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। মূল জন্ম সার্টিফিকেটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আবেদনকারী তার নাম সন্নিবেশিত করবেন। নাম ছাড়াও তাদের চাকরি, বাসস্থান এবং অন্যান্য তথ্য প্রথম আবেদন এবং পরবর্তীকালে দাখিলকৃত আবেদনের সাথে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

    তবে যারা অনিচ্ছাকৃত অথবা ভুলবশত আবেদন করেছিলেন, তারা তাদের DS-260 ও 160 আবেদন সংশোধনের আবেদন করতে পারেন এবং তা গ্রহণও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন একটি জটিল ও স্পর্শকাতর প্রক্রিয়া। এখানে সর্বোচ্চ সতকর্তা অবলম্বন আবশ্যক।

    পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল স্কুল থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল’ ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে ব্রঙ্কসে একটি ল’ ফার্মে কর্মরত এবং অন্য একটি ফার্মে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।