রাজনৈতিক বিভক্তি দুটি স্বতন্ত্র আমেরিকা সৃষ্টি করেছে

    মুহম্মদ শামসুল হক :

    আমেরিকার প্রায় আড়াই শ বছরের ইতিহাসে ডেমোক্র্যাটিক দলীয় ক্ষমতাসীন ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ মোট ১৭ জন ডেমোক্র্যাট ও ১৮ জন রিপাবলিকান রাজনীতিক দেশটির প্রেসিডেন্টের পদ অলংকৃত করেছেন। এই ৩৫ জনের বাইরে একই সময়ে স্বতন্ত্র, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিকান, ন্যাশনাল রিপাবলিকান, হুইগ, ন্যাশনাল ইউনিয়নের ১১ জনসহ সর্বমোট ৪৬ জন দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব প্রেসিডেন্টের পদে আসীন হন। অবশ্য বিগত প্রায় দেড় শ বছর ধরে অনেকটা পালাক্রমেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্টের আসন অলংকৃত করে আসছেন। বিভিন্ন স্টেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাসিন্দাদের জীবনাচরণ, চিন্তাচেতনা, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদির নিরিখে সমগ্র আমেরিকাকে রেড স্টেট ও ব্লু স্টেটÑএই দুটি অভিধায় আখ্যায়িত করা হচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। আধুনিক সভ্যতার দাবিদার আমেরিকার একশ্রেণির উন্নাসিক ও উগ্র র‌্যাসিস্ট সম্প্রদায় আফ্রিকান-আমেরিকান, ল্যাটিনো, এশিয়ান-আমেরিকানসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে চরম অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে আসছে সেই আবহমান কাল থেকে। কারও অজানা নয় যে আমেরিকাকে দাসত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তিদানের লক্ষ্যে ষোড়শ প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন নিজেই গৃহযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    ১৮৫২ সালে প্রেসিডেন্ট লিঙ্কন দাসমুক্তি সনদে স্বাক্ষর করলেও তা কার্যকর হয়েছিল ১৮৫৫ সালের ১৯ জুন। প্রকৃত প্রস্তাবে ১৮৫৫ সালের ১৯ জুন হাজার হাজার আফ্রিকান-আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ প্রভুদের শৃঙ্খলমুক্ত হওয়ায় কৃষ্ণকায় আমেরিকানরা একে ব্ল্যাক ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে হিসেবে পালন করে আসছে। এর পরবর্তী পর্যায়ে রেড স্টেটের বাসিন্দারা বরাবরই রিপাবলিকান দলীয় এবং ব্লু স্টেটের বাসিন্দারা ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর সপক্ষে ভোট দিয়ে আসছেন।

    রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থীরা আমেরিকার সুপ্রিমেসির সপক্ষে এবং ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রার্থীরা গণতন্ত্র ও অভিবাসীদের সপক্ষে নির্বাচনী কর্মসূচি ঘোষণা করে থাকেন। তবে রিপাবলিকান কিংবা ডেমোক্র্যাটÑকোনো প্রেসিডেন্টই আমেরিকার স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের স্বার্থে বিন্দুমাত্র অবদান রেখেছেন, আমেরিকার ইতিহাসে এ ধরনের দৃষ্টান্ত অদ্যাবধি খুঁজে পাওয়া যাবে না। নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা অভিবাসীসহ বিশ্বের কল্যাণে প্রতিশ্রুতির যতই ফুলঝুড়ি ছুড়ুন না কেন, নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো প্রেসিডেন্টই কংগ্রেস ও সিনেটকে পাশ কাটিয়ে আমেরিকার স্বার্থ পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন না।

    যাহোক, ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান বারাক ওবামা ৪৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রেড ও ব্লু স্টেটের মধ্যকার ভেদ-বৈষম্য খানিকটা কমে এসেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের নির্বাচনে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর রেড ও ব্লু স্টেটের চিরায়ত বৈষম্য নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষত, নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ, ট্রাম্পের আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ ও অভিবাসন আইন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ, ড্যাকা কর্মসূচি বাতিলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে উপজীব্য করে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে নিয়ে যান। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে নাজেহাল করার জন্য আদাজল খেয়ে লাগেন। একপর্যায়ে শপথ নিয়ে মিথ্যা বলা এবং বিচারে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিসংশন প্রস্তাব আনেন। অবশ্য সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ট্রাম্প অভিসংশনের অভিশাপমুক্ত হন এবং কার্যকালের শেষ পর্যন্ত স্বপদে বহাল ছিলেন।

    স্মর্তব্য, শতাব্দীর ভয়াবহ করোনা মহামারি ট্রাম্পের ভাগ্যাকাশে কালো মেঘের সঞ্চারণ ঘটায়। ব্যক্তিগত দূরদর্শিতার অভাব ও সহজাত একগুঁয়েমির অবশ্যম্ভাবী ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞতার দরুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা মহামারির শোচনীয় মহাধ্বংসযজ্ঞ উপলব্ধিতে চরম ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাই জাতীয় ছোঁয়াচে রোগ বিশেষজ্ঞ এবং প্রথিতযশা চিকিৎসাবিজ্ঞানী অ্যান্থনি ফাউসির পরামর্শও ট্রাম্প সজ্ঞানে উপেক্ষা করেছিলেন। মাস্ক ম্যান্ডেটের ব্যাপারে বিরোধিতা, করোনা ভ্যাকসিনের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতাসহ জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী কতিপয় হটকারী সিদ্ধান্ত ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবির অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। তা ছাড়া ডেমোক্র্যাটিক দলীয় সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামাসহ প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক নেতারা জো বাইডেনের পক্ষে সারা দেশ চষে বেড়িয়েছিলেন। আর সীমান্ত প্রাচীরের পরিবর্তে সীমান্ত ব্রিজ নির্মাণ, অভিবাসন আইন উন্মুক্তকরণ, করোনার মহামারি প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণসহ একগাল প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন শেষ পর্যন্ত ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পক্ষান্তরে জর্জ ডব্লিউ বুশসহ বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান নেতাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে ট্রাম্প একাই প্রতিপক্ষের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছিলেন। অধিকন্তু আমেরিকার সিংহভাগ প্রচার মিডিয়া শুরু থেকেই ট্রাম্পকে তুলাধোনা করেছিল। জনমত জরিপের দোহাই দিয়ে একাধিক ভিত্তিহীন তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে প্রচারমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের পরাজয়কে বহুলাংশে নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে ২০২০ সালের নির্বাচনকে আমেরিকার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বললে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলা হবে না।

    নির্বাচন-পরবর্তী বিজয় ভাষণে ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন বলেন, আমি এমন প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যিনি বিভক্তির স্থলে সংযোগ সাধন করবেন। যিনি রেড অ্যান্ড ব্লুর (লাল ও নীলের) বিভেদ খুঁজবেন না, বরং ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র গড়বেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় নয় মাসের কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই অধিকতর দৃষ্টিগোচর হবে। বাইডেনের কার্যকালে রেড ও ব্লু স্টেটগুলোর মধ্যকার ভেদ-বৈষম্য গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগ প্রশ্নে রেড ও ব্লু স্টেটগুলোর ব্যবধান গগনচুম্বী হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর রেড স্টেটগুলোর পক্ষ থেকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে বিক্ষোভকারীরা আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতিকে রেড কোভিড-১৯ ফেইজ অব দ্য পেন্ডামিক (কোভিড-১৯ মহামারির লাল ধাপ) হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের ন্যূনতম ৯২ শতাংশ কোভিড-১৯ এর তিনটি ভ্যাকসিনের কমপক্ষে এক ডোজ গ্রহণ করেছেন। পক্ষান্তরে রিপাবলিকানদের সর্বোচ্চ ৫২ শতাংশ তিনটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের এক ডোজ গ্রহণ করেছেন। এটি এমন একটি ধাঁধা সৃষ্টিকারী পরিসংখ্যান, যা পাঠকের নিকট চরম অনভিপ্রেত কাহিনি তুলে ধরছে। মোদ্দাকথা, রিপাবলিকানরা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে ভয়ানকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে, যাকে বিকৃত রাজনৈতিক স্ট্যান্স বা দড়িবাজি বলা চলে। পক্ষান্তরে বহু সংখ্যক ডেমোক্র্যাট ভ্যাকসিন গ্রহণ করায় বর্তমানে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে কম আক্রান্ত হচ্ছে, হাসপাতালে কম ভর্তি হচ্ছে ও কম মারা যাচ্ছে।

    সিডিসির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমেরিকায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ, করোনা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি এবং করোনায় মৃতের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। পূর্ববর্তী সপ্তাহের তুলনায় পরবর্তী সপ্তাহে গড়ে মৃত্যুর হার ১১ থেকে ১৩ শতাংশ বাড়ছে এবং প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ আমেরিকান করোনায় মারা যাচ্ছে। আর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের হারও পূর্ববর্তী সপ্তাহের তুলনায় পরবর্তী সপ্তাহে ২০ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ছে এবং প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর চাপও অব্যাহত রয়েছে। আর আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের বর্ণনা অনুসারে, পেন্ডামিক শুরুর পর থেকে কোভিড-১৯ এ মোট আক্রান্তের প্রায় ২৭ শতাংশ শিশু-কিশোর। সংস্থাটির বর্ণনা অনুসারে, ২২ জুলাইয়ের পর থেকে আমেরিকায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত শিশু-কিশোরের হার ১১৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিদিন ৩২০ থেকে ৩২৫ জন শিশু-কিশোর করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সারা আমেরিকার হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ এবং আইসিইউ এখন রোগীতে ঠাসা। আবার প্রতিদিন লক্ষাধিক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তাই জরুরি পরিষেবাদানের ক্ষেত্রে রেশনিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন অনেকে। কোনো কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানী হাসপাতালের বেড যথাসাধ্য খালি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কোনো কোনো চিকিৎসক বলেছেন, বর্তমানের চরম শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট রোগীদের পিসিআরের প্রয়োজন নেই। অন্যান্য কারণে যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, স্থান সংকুলানে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কায় তাদেরকে স্বজনদের তত্ত্বাবধানে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কিছুসংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। অন্যথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রোগীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবাদান চরমভাবে ব্যাহত হবে এবং অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুও ঠেকানো যাবে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
    এদিকে ১৯১৮ সালের ফ্লু মহামারিতে ২ লাখ ৯৮ হাজার আমেরিকান প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন হার্ভাড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের মহামারি বিশেষজ্ঞ স্টিফেন কিসলার। পক্ষান্তরে করোনা মহামারিতে ৬ লাখ ৮৫ হাজার লোক মারা গেছেন বলে জানিয়েছে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়।

    দ্য নিউ টাইমসের ডেভিড লিয়নহার্ডটের বর্ণনায়, যে ১২টি স্টেটের মোট জনসংখ্যার বিপরীতে প্রতি লাখে করোনা আক্রান্তের হার সর্বোচ্চ, সেসব স্টেটের গভর্নর রিপাবলিকান। যে ১৩টি স্টেটের মোট জনসংখ্যার বিপরীতে প্রতি লাখে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া করোনা রোগীর হার সর্বোচ্চ, সেসব স্টেটের গভর্নর রিপাবলিকান। যে ১৫টি স্টেটের মোট জনসংখ্যার বিপরীতে প্রতি লাখে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ, সেসব স্টেটের গভর্নরও রিপাবলিকান।

    লিয়নহার্ডট আরও বলেন, ভ্যাকসিনেশনের বেলায়ও আমাদের রাজনৈতিক বিভক্তি বর্তমানে যাবতীয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার স্তর ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতিটি নির্ভরযোগ্য ব্লু স্টেটে ভ্যাকসিনেশনের হার প্রতিটি বিশ্বাসযোগ্য রেড স্টেটের চেয়ে ঢের বেশি। ভয়াবহ রোগব্যাধি ও ডেল্টার সংক্রমণ প্রতিহতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কমাতে এমনকি করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস করতে কোভিড-১৯ ইতিমধ্যে অব্যর্থ হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভ্যাকসিন নিয়েও রীতিমতো রাজনৈতিক জুয়াখেলা চলছে। করোনা অদ্যাবধি আমেরিকার জন্য জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচিত হলেও সম্ভবত রাজনৈতিক নেতাদের বোধোদয় হচ্ছে না। আর রেড আমেরিকায় দিনে দিনে করোনার ভয়াবহতা ক্রমবর্ধমান হারে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। উপসংহারে লিয়নহার্ডট বলেন, আমাদের রাজনৈতিক বিভক্তি দুটি পুরোপুরি ভিন্ন আমেরিকা সৃষ্টি করেছে। একটি অংশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী ভ্যাকসিন নিয়েছে, সেখানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা কম।
    আর অন্য অংশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী আন-ভ্যাকসিনেটেড, ক্রমবর্ধমান হারে ডেল্টায় আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং আশঙ্কাজনক হারে মারা যাচ্ছে। আবার ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান প্রশ্নে অভিভাবকেরা স্পষ্টতই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ৪৪ শতাংশ অভিভাবক নিজ নিজ পোষ্যদের ভ্যাকসিন প্রদানে সম্মতি প্রদান করেছেন এবং ৪২ শতাংশ অভিভাবক ভ্যাকসিন প্রদানের ঘোর বিরোধিতা করেছেন। বাইডেন প্রশাসনের জন্য আরও একটি অশুভ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি জেনেট ইলেন। ইলেন জানান, ১৮ অক্টোবরের মধ্যে আমেরিকার রাজস্বভান্ডার পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যাবে। গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো সিএনএনসহ বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমের খবর অনুসারে, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কমপক্ষে ১০টি সিনেট আসনে রদবদল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সিনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ৫০-৫০ হলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের কারণে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে স্বীকৃত। এ অবস্থায় ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে জো বাইডেন প্রশাসনকে চরম বেকায়দায় পড়তে হবে।

    সহযোগী সম্পাদক, ঠিকানা, নিউইয়র্ক। ৫ অক্টোবর ২০২১