সুখবরের অপেক্ষায় ২৮ হাজার ভোটার

    মামলার শুনানি ২ ডিসেম্বর

    ঠিকানা রিপোর্ট : আগামী ২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সোসাইটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। কুইন্সের নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে বলে জানা গেছে। এদিন সোসাইটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর যে স্থগিতাদেশ রয়েছে তা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বাংলাদেশ সোসাইটির নিয়োগ করা আইনজীবী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
    অন্যদিকে মামলার বাদী ও বাংলাদেশ সোসাইটির আজীবন সদস্য নীরু এস. নীরা ঠিকানাকে জানিয়েছেন, যেসব অভিযোগে মামলা করেছি সেসব ব্যাপারে আমরা আরো অনেক তথ্য প্রমাণ হাতে পেয়েছি। ২ ডিসেম্বর শুনানির দিন সেগুলো আদালতে উপস্থাপন করবো।
    এক প্রশ্নের জবাবে নীরা বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির স্বার্থে আমরা যে কোনো ছাড় দিতে রাজি আছি। কিন্তু কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে পারি না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনেও বাংলাদেশ সোসাইটি কমিউনিটির বৃহৎ স্বার্থে এগিয়ে আসতে পারছে না। বাংলাদেশি কমিউনিটিকে মূলধারায় নিয়ে যেতে পারেনি। মূলতঃ কতিপয় ব্যক্তির পকেট সংগঠনে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি, এভাবে চলতে দেয়া যায় না।
    নীরু এস. নীরা দাবি করেন, এম. আজিজ, রহিম হাওলাদার, কাজী নয়ন, কার্যকরী কমিটি বা ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই। জন্মলগ্ন থেকে বাংলাদেশ সোসাইটিতে দুর্নীতি চলছে। আমি দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে মামলা করেছি। আশাকরি মামলায় ভালো ফল পাব। তবে বাংলাদেশ সোসাইটি যারা পরিচালনা করছেন তারা আমার ভাষা বুঝতে পারছেন না যে আমি কী চাচ্ছি।
    ২ ডিসেম্বরের মামলার শুনানির প্রস্তুতি সম্পর্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি এম. আজিজ ঠিকানাকে জানান, আমাদের আইনজীবী অ্যান্ড্রু মলিনেস এ ব্যাপারে কাজ করছেন। মামলার মেরিট দেখে তিনি আমাদের আশার কথা শুনিয়েছেন। আমরাও আশা করছি, ২৮ হাজার ভোটারকে সুখবর দিতে পারবো। কারণ বাদী যে দাবি নিয়ে মামলা করেছেন তা অযৌক্তিক। বাদী বাংলাদেশ সোসাইটিকে বুঝিয়ে দিতে বলেছেন। এটা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে কাউকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
    এম আজিজ বলেন, এর আগে ২০১৮ সালে একই দাবিতে মামলা হয়েছিল। আদালত তা খারিজ করে দিয়েছিল। একই মামলা গত ২ নভেম্বর করা হয়েছে। ১২ নভেম্বর আদালত নির্বাচনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা যথোপযুক্ত ছিল না। কারণ সেদিন আদালতে বিজ্ঞ বিচারক ছিলেন না। বিচারক কাগজপত্র সঠিকভাবে পর্যালোচনা করলে নিবাচন স্থগিত হতো না।
    এম. আজিজ আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিলে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে দুই বার নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় সোসাইটির বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। ভোটিং মেশিনের জন্য ৬০ হাজার ডলার খরচ হয়। অন্যান্য খরচ তো রয়েছেই। তবে নতুন নির্বাচনের জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে বলে জানান তিনি।

    বিগত দুটি নির্বাচনের খরচের হিসাব নির্বাচন কমিশন থেকে পেয়েছেন কী না জানতে চাইলে এম. আজিজ বলেন, আমি কয়েকবার নির্বাচন কমিশনের কাছে হিসাব চেয়েছি। কিন্তু কমিশন এ ব্যাপারে আমাদের হিসাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তারা নির্বাচন শেষে চূড়ান্ত হিসাব কার্যকরী কমিটিকে বুঝিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। এমনকী গঠনতন্ত্রের কোথাও হিসাব দেয়ার নিয়ম নেই বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাকে জানিয়েছেন।