সুরের মূর্ছনায় ভক্তদের মাতালেন বেবী নাজনীন

    ঠিকানা রিপোর্ট : ব্ল্যাক ডায়মন্ড খ্যাত স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনের অগণিত ভক্ত-শ্রোতা দেশ-বিদেশে। তাঁর গান মানেই সুরের মূর্ছনা। বিমোহিত হন ভক্ত-শ্রোতারা। এবার নিউইয়র্কের ভক্তরা তাদের প্রিয় শিল্পীকে নিয়ে আয়োজন করলেন বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানের। আর ভক্তদের জন্য মন খুলে গাইলেন শিল্পী বেবী নাজনীন। ভক্তদের গান শুনিয়ে খুশি শিল্পী নিজেও।

    গত ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডের গুলশান টেরেসে বেবী নাজনীন ফ্যান ক্লাব ইউএসএ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভক্ত-শ্রোতা ছাড়াও প্রবাসের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বেবী নাজনীন শুধু আধুনিক নয়, দর্শকদের অনুরোধে গেয়ে শোনান সুফি, গজল, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও ভাওয়াইয়া গান। উর্দু ও হিন্দি গজলে তাঁর দরদ মাখানো কণ্ঠ শ্রোতাদের নিয়ে যায় সঙ্গীতের অনেক গভীরে। পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে গান নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ দর্শক-শ্রোতাদের জ্ঞানভাণ্ডারকেও করেছে সমৃদ্ধ।
    শিল্পী তাঁর পরিবেশনা শুরু করেন ‘সূর্য যখন ওঠে’ দেশের গান দিয়ে। তারপর দু’চোখে ঘুম আসে না, এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচলসহ তাঁর জনপ্রিয় ১০টি মৌলিক গান পরিবেশনের পর একটি বিরতি নেন। এই বিরতিতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্টসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

    বিরতি থেকে ফিরে শিল্পী তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তরুণ শিল্পীদের উদ্দেশে বলেন, ভালো শিল্পী হওয়ার প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে রেওয়াজ করা। তিনি বলেন, লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য সাধনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে মেহেদি হাসানের গজল দিয়ে আবার তাঁর পরিবেশনা শুরু করেন।

    উর্দু, হিন্দি গজল ছাড়াও অতিথিদের পছন্দের গানগুলো একে একে পরিবেশন করেন বাংলাদেশের সঙ্গীত অঙ্গনে সাড়া জাগানো এই শিল্পী। গেয়েছেন সিলেটের আঞ্চলিক গানও।
    সবশেষে তাঁর নিজের এলাকার জনপ্রিয় ভাওয়াইয়া গান ‘একি গাড়িয়াল ভাই দিয়ে শেষ করেন বেবী নাজনীন। এ সময় হলভর্তি দর্শকরা তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।
    সুন্দর ও পরিপাটি এই সঙ্গীত সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি যুক্তরাষ্ট্র শাখার আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মিল্টন ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক শরাফত হোসেন বাবু, বিশিষ্ট চিকিৎসক চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ, আসেফ বারী টুটুল, আহসান হাবীব, মাকসুদুল এইচ চৌধুরী, যুবদল নেতা আবু সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী বেবী নাজনীন বাংলাদেশের নীলফামারী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি বেশ কয়েকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। সর্বশেষ ২০০৩ সালে তিনি সঙ্গীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া দেশ বিদেশ থেকে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।